মালয়েশিয়ায়, মালাক্কায়

১৭৫৩ সালে স্থাপিত ক্রাইস্ট চার্চ, মালাক্কার কেন্দ্রীয় ট্যুরিস্ট এট্রাকশন এলাকার কাছে

চাইনিজ নিউ ইয়ারের ছুটিতে গতবছরে সিঙ্গাপুরে কাটিয়ে বুঝতে পেরেছিলাম পরের একই বন্ধে সিঙ্গাপুরে থাকা যাবেনা, সব কিছু বন্ধ থাকে এখানে (সিঙ্গাপুরে)। এবার বন্ধু সাফাত একবার বলতেই রাজি হয়ে গেলাম মালয়েশিয়ার মালাক্কা শহরে ২ দিনের ছোট ট্রিপ দিতে। চাইনিজ নিউ ইয়ার উপলক্ষে জহর বাহরুর চেকপয়েন্টের ভিড় এবং পর্যাপ্ত হোটেল, বাস না পাওয়ার অনিশ্চয়তার মধ্যেও ঠিক করলাম এবার সিঙ্গাপুর থেকে বের হবোই!

একপাশে সমুদ্র, অপরপাশে শহর, মালাক্কায় আমাদের এপার্টমেন্ট (৩৪ তলায়) থেকে তোলা ছবি 

ঠিক এক/দুই দিন আগে থেকে শুরু হলো করোনাভাইরাসের দৌরত্ন। এই উদ্বিগ্ন পরিস্থিতিতেই শনিবার ভোর ৫ টায় রওনা দিলাম জহর বাহরুর দিকে। এত ভোরে রওনা দেয়ার উদ্দেশ্য চেকপয়েন্টের ভিড় এড়ানো, এবং সেই উদ্দেশ্য সফলও হলাম। এর পরে লারকিন বাস টার্মিনাল থেকে চার ঘন্টার বাস জার্নি শেষে পৌঁছলাম মালাক্কা শহরে, সেখান থেকে আমাদের এয়ারবিএনবি তে ঠিক করা এপার্টমেন্টে।

মালাক্কায় পেনাং এর মতই চাইনিজ মালয়েশিয়ানদের বসতি অধিক। ১৫১১ তে পর্তুগিজরা মেলাকা দখল করে, পরে ১৬৪২ এ ডাচরা এসে পর্তুগিজদের বিদায় করে। এই দুই কলোনির কিছু স্থাপনা এখনো বিদ্যমান যেগুলো এখন এখানকার প্রধান ট্যুরিস্ট এট্রাকশন। ষোড়শ শতাব্দীতে স্তাপিত দুর্গ, চার্চ, জেলখানা গুলো ১৮০৭ সালে ইংরেজরা আসার পরে ভেঙ্গে দেয়, তবে ফেমোসা দুর্গের প্রবেশদ্বার, চার্চ, ডাচদের তৈরি Stadthuys বাদে। এইসবের সাথে দেখলাম ফ্যান্সি কিছু রিকশা যা সাইকেলের সাথে বাড়তি বসার জায়গা লাগিয়ে তৈরি করা। এই রিকশা গুলোতে স্পিকার লাগানো আছে, যারা যে ধরনের গান শুনতে পছন্দ করে, তাদের জন্য সেরকম গান বাজায়ঃ চাইনিজ, কোরিয়ান পপ, তামিল, বলিউড সবই শুনলাম। হয়তো আমরা উঠলে আর্টসেল বাজিয়ে দিত!

এছাড়া জঙ্কার স্ট্রিট এখানের রাতের মার্কেট এবং লোকাল চাইনিজ খাবার দোকান এর জন্যে বিখ্যাত। বিভিন্ন ধরনের স্ট্রিট ফুডে সমৃদ্ধ জঙ্কার স্ট্রিট। জঙ্কার স্ট্রিটে ঢুকার সময়ে শুরুতেই চোখে পড়লো ‘ড্রাগন নাচ’। তারপরেই দেখলাম বিশেষ কায়দায় ডাব বিক্রি করার অভিনব কায়দা! নিচে ভিডিওতে ডাব এবং ফ্যান্সি রিকশা দেখা যাবে।

মালাক্কা ভ্রমনের ভিডিও ডায়েরি

এগুলো ঘুরে দেখা শেষে আমরা রাতের খাবার খেতে যাই ‘পাক পুত্র’ রেস্টুরেন্টে, তন্দুরি চিকেন এর জন্য যা স্থানীয়দের এবং ট্যুরিস্টদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়। পরেরদিন আবার বাস নিয়ে জহর বাহরু হয়ে সিঙ্গাপুরে ফেরত আসি আমরা। এরই মধ্যে করোনাভাইরাসের ভয় আরো বৃদ্ধি পায়।