ল্যাব রোটেশনের এই দিনগুলো

অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ওয়াং ওয়েই এর ল্যাবে দিন গুনছি কবে এই জিনিস শেষ হবে, কারন, ছয় সপ্তাহের এই ল্যাব রোটেশনে বিচিত্র নতুন কিছু অভিজ্ঞতার সম্মুখীন আমি যার জন্য এই দিন গোনাগুনি। আগে বলে রাখি, ল্যাব রোটেশন হচ্ছে পিএইচডি রিসার্চ শুরু করার আগে ট্রায়াল বেসিসে দুইটা ভিন্ন ল্যাবে দুইজন ভিন্ন প্রফের অধীনে কাজ করতে হয়। এই দুই ল্যাব প্রথম সেমিস্টারে দুই ভাগে হয়, প্রথম ভাগে প্রথম ছয় সপ্তাহ এক ল্যাবে, পরের ভাগে আরেকটায়। তবে এই দুই ভাগে দুই প্রফের কাছ থেকে ‘স্যাটিসফ্যাকটোরি’ গ্রেড নেয়া লাগে। যাই হোক, ল্যাব রোটেশনের এই ব্যপারটা আমার কাছে বেশ ভালই লেগেছে, কারন আমার মত স্টুডেন্ট যারা দেশে গ্র্যাজুয়েশনের পরে নাকে তেল লাগিয়ে ঘুমিয়ে বেড়িয়েছে, তাদেরকে হঠাৎ করেই পিএইচডি রিসার্চে না বসিয়ে ‘আসল’ পিএইচডি রিসার্চ কি জিনিস সেটার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার খুবই মোক্ষ্ম সুযোগ করে দেই এই ল্যাব রোটেশন। তাছাড়া অনেক স্টুডেন্টেরই ল্যাব রোটেশন করতে গিয়েই সুপারভাইজার ঠিক হয়ে যায়।

এই লেখা শুরু করেছি যখন তখন আমি প্রথম ভাগের পঞ্চম সপ্তাহে প্রফ ওয়াং ওয়েই এর প্রোজেক্টের কাজে যে ল্যাবে বসেছি সেখান থেকে লিখছি। এই ল্যাব রোটেশন থেকে ইতিমধ্যে যেসকম তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় খেয়াল করেছি সেগুলো পয়েন্ট আকারে নিচে দিলাম।

  • চাইনিজ বংশদ্ভুত এই প্রফ ল্যাবে কাজ শুরুর আগেই আমাকে জানিয়ে দেন যে উনার ল্যাবের স্টুডেন্ট/রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টরা সোম-শনি ১০টা(সকাল)-১০টা(রাত) ল্যাবে থাকে। এ কথা শুনেই এই প্রফের সাথে/প্রোজেক্টে কাজ করার আমার যে একটা ক্ষীণ ইচ্ছা ছিল সেটা মুহূর্তেই গায়েব হয়ে যায়।

    আমার ধারনা চীনা পরিবেশে বড় হওয়া লোকগুলো সারাদিন পরিবার, বন্ধু, আড্ডা, গল্প ছেড়ে কর্মক্ষেত্র থেকে সকল কাজ করতেই পছন্দ করে। এই ল্যাবের বাকি সব স্টুডেন্টই চীনা এবং তারা আসলেই এই ১০-১০টা রুটিন ফলো করে। এখানেই এদের দুপুরের খাবার, সান্ধ্যকালীন খাবার এবং আড্ডা সবই হয়। এদের এই ব্যপারটার সাথেই কোনভাবেই খাপ খাওয়াতে পারলাম না এই পাঁচ সপ্তাহে।

  • ল্যাবের স্টুডেন্টরা সবাই চাইনিজ হওয়ায় এরা এরা নিজেরা কি বলে না বলে কিছুই বুঝিনা, মজা করলেও বুঝি না, গালি দিলেও বুঝি না। এই জন্য এদের সাথে এই এক মাসেরও বেশি সময়ে কখনোই কথা বলে বেশি আরাম পাইনি। এটাও একটা কারন যেজন্য আমি এইরকম চাইনিজ-পূর্ণ ল্যাবে কাজ করতে আর ইচ্ছুক না।